Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৫৮
বিশ্বকাপে না থেকেও আলোচনায়!
রিয়াল ছেড়ে জুভেন্টাসে রোনালদো
বিশ্বকাপে না থেকেও আলোচনায়!

বিশ্বকাপে ঝলসে উঠেও দলকে টেনে তুলতে পারেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। শেষ ষোলো থেকে অনেকটা খালি হাতেই বিদায় নিয়েছিলেন। ফলে বিশ্বকাপ নিয়ে মেসির মতো রোনালদোর দীর্ঘশ্বাসটা থেকেই গেছে। এর আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল রোনালদোর প্রায় নয় বছরের সংসার রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার কথা ভাবছেন তিনি। কিন্তু অনেকবারই এমন কথা উঠলেও শেষমেশ রিয়ালেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু এবার ঠিকই পাল্টে গেছে ইতিহাস। রোনালদো যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। বিশ্বকাপে না থেকেও তাই আলোচনায় রোনালদো।

 

লুসিয়ানো মোগির এক টুইটের পর নতুন করে আলোচনায় আসে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার গুঞ্জন। সেই গুঞ্জনে ঘি ঢালেন জুভেন্টাস সভাপতি আন্দ্রে আগনেলি। মঙ্গলবার হঠাৎ করেই গ্রিসে গিয়ে রোনালদোর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এলো সিআর সেভেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে রোনালদোর দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে ট্রান্সফার ফির ব্যাপারে কিছু না জানালেও স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে এই পর্তুগিজ সুপারস্টারকে দলে ভিড়িয়েছে জুভেন্টাস। ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ কার্যকর থাকবে। এই চার বছরের চুক্তিতে রোনালদোর বার্ষিক বেতন ধরা হয়েছে ৩০ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা তো থাকছেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পরই দলবদলের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন রোনালদো। সেই গুঞ্জন ডালপালা ছড়াতে শুরু করে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পরই। গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করে দিয়েছিলেন লুসিয়ানো মোগি।

২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদ পাড়ি জমান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এরপর গত ৯ বছরে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটিকে দুহাত ভরে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই ফুটবলার। খেলেছেন সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে। গড়ে উঠেছিল অন্যরকম এক বন্ধন; যা বন্ধুর চেয়েও বেশি।

তবে সব বন্ধন ছিঁড়ে ১০ জুলাই, মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে রোনালদো নাম লিখিয়েছেন ইতালির শীর্ষ ক্লাব জুভেন্টাসে। স্বাভাবিকভাবেই ৯ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটার পর সার্জিও রামোস-মার্কো অ্যাসেনসিও-টনি ক্রুসজদের মন কাঁদছে রোনালদোর জন্য। তাই তো বিদায় বেলায় এতদিনের সতীর্থকে আবেগী বার্তাই পৌঁছে দিয়েছেন বন্ধুরা।

রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতেই দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অধিনায়ক সার্জিও রামোস জানান শুভেচ্ছা বার্তা। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো তোমার গোল, তোমার পরিসংখ্যান এবং সব অর্জন কাউকে বলে বোঝানোর দরকার নেই।

রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে তুমি একটি বিশেষ স্থান অর্জন করেছ। মাদ্রিদিস্তা হিসেবে তোমাকে সব সময় স্মরণ করব। তোমার সঙ্গে খেলতে পেরে আনন্দিত। তোমার জন্য শুভ কামনা।’

শুধু রামোসই নন, রোনালদোর সঙ্গে দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগ সামলানো গ্যারেথ বেলও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। টুইটারে নিজের সঙ্গে রোনালদোর একটি ছবি পোস্ট করে বেল লিখেছেন, ‘অবিশ্বাস্য এক খেলোয়াড়! গত পাঁচ বছর ধরে তোমার সঙ্গে খেলতে পারাটা সত্যি আনন্দের ব্যাপার। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল আমার বন্ধু।’

 রোনালদোকে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যমাঠের কাণ্ডারি টনি ক্রুসও। টুইটারে নিজের সঙ্গে রোনালদোর একটি ছবি পোস্ট করে এই জার্মান মিডফিল্ডার লিখেছেন, ‘বেশ কয়েকটি ট্রফি জিতেছি একসঙ্গে। একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। তোমার সঙ্গে খেলতে পারাটা সত্যিই আনন্দের। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।

 

 

সংখ্যাতত্ত্বে...

৪৫০ - রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রেকর্ড ৪৫০টি গোল রোনালদোর।

৪৩৮ - রিয়ালের হয়ে ৪৩৮ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন।

৩১১ - লা লিগায় মোট গোল।

১০৫ - চ্যাম্পিয়নস লিগে মোট গোলসংখ্যা ১০৫টি।

৬১ - এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ৬১টি।

৪৪ - রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মোট হ্যাটট্রিক।

১৭ - চ্যাম্পিয়নস লিগের এক (’১৩-’১৪) মৌসুমে রেকর্ড ১৭ গোল।

১৬ - ক্লাবের হয়ে মোট ১৬টি শিরোপা। ২টি ঘরোয়া কাপ, ২টি ঘরোয়া ও ৩টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ।

৮ - এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করেছেন ৮ বার।

৮ - গ্রানাডার বিপক্ষে ৯-১ গোলে জেতা ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক  পেতে ঠিক ৮ মিনিট লেগেছিল।

৪ - সর্বমোট ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।

৪ - রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন  নয় বছরে চারটি ব্যালন ডিঅর।

১ - ৪৫০ গোল নিয়ে রিয়ালের ইতিহাসে শীর্ষ গোলদাতা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow