ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

আজকের পত্রিকা

চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকের বাবাকে কুপিয়ে আহত
অনলাইন প্রতিবেদক

চাঁদা দাবি, জমি জবর-দখলসহ সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের অশান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের (অনলাইন) সহ-সম্পাদক কবিরুল ইসলামের বাবাকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত মো. আতিয়ার রমান যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার সন্ধ্যায় ভান্ডার খোলা বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেশবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চাঁদা দাবি, জমি জবর দখলসহ বিভিন্ন ধরনের অশান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আতিয়ার রহমানকে মো. আলমগীর হোসেন, মো. জাকির হোসেন পান্না, মো. আসদুল ইসলাম, মো. আমির আলী, মো. সোহরাব আলী, মো. আলম সরদার মো. মেহেদী হাসান, মো. অলিয়ার রহমান, মো. হুমায়ুন কবির, মো, আব্দুল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা ১২-১৪ ব্যক্তি উপর্যপুরি ভুক্তভোগীকে রামদা, জিআই পাই, লোহার রড বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে আতিয়ার রহমান গুরুতর আহত হন। 

এ বিষয়ে সাংবাদিক কবিরুল ইসলাম বলেন, শত শত ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে সদ্য অর্জিত স্বৈরাচারমুক্ত বাংলায় কিছু দুর্বৃত্ত চাঁদাবাজি, জমি দখলের মতো অপকর্মে জড়িত হয়েছে। আমার বাবা এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা হয়। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসামিরা কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন আজাদের সমর্থক। তার মদদে এই চক্রটি এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত। 

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনি ১০ কিলোমিটার দূরে থাকেন। ওখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বললে ঘটনা জানা যাবে। মারধর করার অধিকার আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাই।’ এসময় তিনি বলেন, যদি কেউ কোনো অন্যায় করে তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ব্যবস্থা নেওয়ার মালিক না। আমি কীভাবে ব্যবস্থা নিবো। ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি, কেন্দ্রীয় বিএনপি। 

কেন্দ্রীয় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কে এই আলমগীর : ১১ নম্বর হাসানপুর ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন। তার বাবা মোজাম ইউনিয়নে দালাল নামে পরিচিত। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। আলমগীর হোসেন জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেছেন বলে শোনা যায়। তবে এলাকায় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে পরিচয় দেন। বিএনপির ২০০১ থেকে ২০০৫ শাসনামলে আলমগীর হোসেন স্থানীয়দের কাছ থেকে চাকরি দেবেন বলে  অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে।

 আলমগীরের ভাই জাকির হোসেন পান্না আওয়ামী লীগের সমর্থনে দুইবার ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচন করেন। ওয়ার্ড মেম্বার থাকার সময় তিনি টাকা নিয়ে ভাতা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত



এই পাতার আরো খবর