শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩ ০০:০০ টা

বিছানাকান্দির গলার কাঁটা বেহাল সড়ক

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিমুখ পর্যটক

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

বিছানাকান্দির গলার কাঁটা বেহাল সড়ক

সিলেটের গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক বেহাল হয়ে পড়ায় পর্যটকরা এখন যেতে চান না বিছানাকান্দি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম বিছানাকান্দি। স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের ওপর দিয়ে প্রবাহমান জলে অবগাহন করতে পর্যটকরা ছুটে যান সেখানে। কিন্তু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগের কারণে পর্যটকরা এখন আর বিছানাকান্দিমুখী হতে চান না। খানাখন্দ ও বিভিন্ন স্থানে সেতুর সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় এক বছর ধরে প্রায় পর্যটকশূন্য রয়েছে বিছানাকান্দি। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় লোকজনের আর্থ-সামাজিক অবস্থায়ও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। সিলেট শহর থেকে বিছানাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। আর সালুটিকর বাজার থেকে দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। সিলেট শহর থেকে পর্যটকরা সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক দিয়ে বিছানাকান্দি যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় যান চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারণে সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিছানাকান্দি ভ্রমণে অনাগ্রহ দেখান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটক ছাড়াও গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর, লেঙ্গুড়া, বিছানাকান্দি, রুস্তুমপুর, তোয়াকুল ও নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের আড়াই লক্ষাধিক মানুষ সিলেট জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। সর্বশেষ ওই সড়কটি সংস্কার করা হয় ২০১৬ সালে। সংস্কার শেষ হতেই কয়েক দফা পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কটি। এরপর গত ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো সড়ক। স্থানে স্থানে উঠে যায় পিচ। খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে যান চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর থেকে গুরকচি পর্যন্ত সংস্কারের জন্য সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। বর্তমানে ওই অংশের সংস্কার কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে। এ ছাড়া গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের হাটগাঙ সেতু, তোয়াকুল সেতু, বঙ্গবীর সেতু নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। ইতোমধ্যে সেতু তিনটি পুনর্নির্মিত হলেও উভয় পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের সালুটিকর বাজার থেকে তোয়াকুল ইউনিয়নের পেকেরখাল সেতু পর্যন্ত ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগের কারণে গত বছর জুন মাসে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে পর্যটকরা বিছানাকান্দিবিমুখ রয়েছেন। তারা বিছাকান্দির পরিবর্তে গন্তব্য পরিবর্তন করে সাদাপাথর ও জাফলং চলে যাচ্ছেন। এতে বিছানাকান্দিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শত শত নৌকার মাঝি বেকার হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্র এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন আর্থিক সংকটে। উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের গুরকচি থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়াও সড়কটির তোয়াকুল অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে বঙ্গবীর পয়েন্ট পর্যন্ত সংস্কার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। সড়কের বাকি সংস্কার কাজের জন্য একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর