৭ জুন, ২০২৪ ২০:০৮
রিমালের ছোবল

বাগেরহাটে ১৩দিন ধরে জোয়ারে নিমজ্জিত হচ্ছে পাঁচ গ্রাম

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটে ১৩দিন ধরে জোয়ারে নিমজ্জিত হচ্ছে পাঁচ গ্রাম

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পাঁচটি গ্রামের এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি দুই সপ্তাহ ধরে দিনে দুই বার করে জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। প্রধান আয়ের উৎস চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগড়বুনিয়া, রোমজাইপুর, সাতপুকুরিয়া, আড়ুয়াডাঙ্গা, জিগিরমোল্লা গ্রামের মানুষ। তারা এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। 

এই পাঁচটি গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতে প্রশাসনে পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র তিন লাখ টাকা। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া এই বরাদ্দে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত না হওয়ায় জীবন ও জীবিকার তাগিদে স্থানীয়রা এখন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। 

পেড়িখালী ইউপি সদস্য ফকির গিয়াস উদ্দিন ও মো. নজরুল ইসলাম জানান, সিংগড়বুনিয়া, রোমজাইপুর, সাতপুকুরিয়া, আড়ুয়াডাঙ্গা, জিগিরমোল্লা গ্রামের চারিদিক দিয়ে বয়ে গেছে মোংলা-ঘোষিয়াখালী নৌ চ্যানেল ও মাদারতলা নদী। এই ব-দ্বীপের মধ্যেই এই পাঁচটি গ্রামের মানুষের বসবাস। প্রতিট প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতবিক্ষত হয় এলাকাটি। গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমাল সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এসব  গ্রামের মানুষের একমাত্র আয়ের উৎস হাজার-হাজার হেক্টর চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। ২৫ কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন তারা। এই পাঁচটি গ্রামের এক হাজার পরিবার দুই সপ্তাহ ধরে দিনে দুইবার করে জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে।

সিংগড়বুনিয়া ও সাতপুকুরিয়া গ্রামের দুই গৃহবধু রহিমা বেগম ও তাসলিমা খাতুন জানান, ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করাও যাচ্ছে না। এই অবস্থায় শুকনা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। লবণ পানি প্রবেশ করায় নিয়মিত গোসল করাও বন্ধ হয়ে গেছে। দূরের গ্রামে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে খাবার পানি আনাসহ গোসলও করতে হচ্ছে। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ছেলেমেয়েরা স্কুলেও যেতে পারছে না। 

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহিমা সুলতানা বুশরা জানান, ৩৬ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে চলা ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে রামপালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগড়বুনিয়া, রোমজাইপুর, সাতপুকুরিয়া, আড়ুয়াডাঙ্গা ও জিগিরমোল্লা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ করছে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ হলে হাজারো পরিবারের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি এই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
   
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহম্মদ আল বেরুনী জানান, বাগেরহাটের এবারের ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগড়বুনিয়া, রোমজাইপুর, সাতপুকুরিয়া, আড়ুয়াডাঙ্গা ও জিগিরমোল্লা এলাকাই নয়  অনেক এলাকার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। 


বিডি প্রতিদিন/নাজমুল

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর