রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০ টা

পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা : বাংলা

অধ্যায় : এই দেশ এই মানুষ

আতাউর রহমান সায়েম, সাবেক শিক্ষক সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল, ঢাকা।

[পূর্ব প্রকাশের পর]

৭। নিচের ক্রিয়াপদগুলোর চলিত রূপ লেখ :

 

১১.       নিচের বাক্যগুলোর প্রদত্ত ভুল শব্দটি শুদ্ধ করে লেখ :                              

 

            ক. বাংলাদেশের মানুষ বাঙালি  হিসাবে পরিচিত।

            খ. ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম ট্টেনে যাওয়া যায়।

            গ. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলমান।

            ঘ. প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য আমাকে মুগ্ধ করে।

            ঙ. আমাদের দেশের খ্রিষ্টান বন্ধুরা বেশ অমায়িক।

১৩.      উত্তর :

            ক. বাংলাদেশের মানুষ বাঙালি  হিসেবে পরিচিত।

            খ. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে যাওয়া যায়।

            গ. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান।

            ঘ. প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র আমাকে মুগ্ধ করে।

            ঙ. আমাদের দেশের খ্রিস্টান বন্ধুরা বেশ অমায়িক।

১৪.       বিরামচিহ্ন বসিয়ে অনুচ্ছেদটি পুনরায় লেখ :                 

বাংলাদেশের এই যে মানুষ তাদের পেশাও কত বিচিত্র। কেউ জেলে কেউ কুমার কেউ কৃষক কেউ আবার কাজ করে অফিস আদালতে সবাই আমরা পরস্পরের বন্ধু একজন তার কাজ দিয়ে আরেক জনকে সাহায্য করছে গড়ে তুলছে এই দেশ।

১৪. উত্তর : বাংলাদেশের এই যে মানুষ, তাদের পেশাও কত বিচিত্র। কেউ জেলে, কউ কুমোর, কেউ কৃষক, কেউ আবার কাজ করে অফিস আদালতে। সবাই আমরা পরস্পরের বন্ধু। একজন তার কাজ দিয়ে আরেক জনকে সাহায্য করছে। গড়ে তুলছে এই দেশ।

১৫। রচনা লেখ : এই দেশ এই মানুষ (প্রায় ২০০ শব্দে)

১৫। উত্তর :       এই দেশ এই মানুষ

ভূমিকা : বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির বুক চিরে গাঙ্গেয় অববাহিকায় সগর্বে জেগে ওঠা পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ হচ্ছে আমাদের এ প্রিয় বাংলাদেশ। প্রায় এক লাখ পঞ্চাশ হাজার  বর্গকিলোমিটারের উর্বর পলল-সমৃদ্ধ ছোট্ট এ দেশ রূপ বৈচিত্র্যের বিচারে পৃথিবীতে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এর সাগরের গর্জন, অসংখ্য নদীর অপরূপ বয়ে চলা, স্থলভাগের সবুজ শ্যামলিমা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য আর অতুলনীয় ঋতু বৈচিত্র্যের পটভূমিতে যে অনুপম দৃশ্যের অবতারণার হয় তা মানুষ মাত্রকেই মুহূর্তে ভাবুক করে তোলে। তাই মনের অজান্তেই কবিমন গেয়ে ওঠে-

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,

সকল দেশের রাণী সে যে- আমার জন্মভূমি।”

- (ধনধান্য পুষ্পভরা : কবি দ্বিজেন্দ লাল রায়)

আদিবাসী : বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি হলেও তাদের ছাড়া আরও লোকজন আছে- চাকমা, গারো, মারমা, রাখাইন সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুরং, তংচঙ্গা ইত্যাদি। সবারই রয়েছে নিজস্ব ভাষা। পোশাক পরিচ্ছদও কত ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচের। দৈনন্দিন জীবনযাপন, আনন্দ-উৎসব তাদের নিজেদের। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত পশ্চাৎপদ শ্রেণি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৪১টি আদিবাসী গোষ্ঠী তফসিলভুক্ত হয় ও পরবর্তীকালে পঞ্জীকরণ ঘটে বাংলাদেশে।

মানুষের পেশা : বাংলাদেশের এই যে মানুষ, তাদের পেশাও কত বিচিত্র। কেউ জেলে, কেউ কুমার, কেউ কৃষক, কেউ আবার কাজ করে অফিসে-আদালতে। সবাই আমরা পরস্পরের বন্ধু। একজন তার কাজ দিয়ে আরেক জনকে সাহায্য করছে। গড়ে তুলছে এই দেশ। কৃষকের কথাই ভাবা যাক। তারা কাজ না করলে আমাদের খাদ্য জোগানোর সমস্যা হতো। সবাইকে তাই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে, ভালোবাসতে হবে। আর মধ্যযুগের কবি বড়ু চণ্ডীদাসের ঐ কথাই মনে করতে হবে-

“শুনহে মানুষ ভাই,

সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”

ধর্মীয় উৎসব : আনন্দ হচ্ছে নানা ধরনের উৎসব নিয়ে। মুসলমানদের দুটি ঈদ রয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের দুর্গাপূজা ছাড়াও এত উৎসব আছে যে, ‘বারো মাসে তের পার্বণ’ লেগেই থাকে। বৌদ্ধদের আছে সারা বছরে কয়েকটি বৌদ্ধ পূর্ণিমা। খ্রিস্টানদের আছে ইস্টার সানডে, তাছাড়া ‘বড় দিন’ যেটা পড়ে ২৫ ডিসেম্বর। এর প্রায় সবই তো আমাদের দেশের মানুষ উদযাপন করে থাকে। কারণ আমাদের মনোভাব কবির ভাষায়-

“জগৎ জুড়িয়া একজাতি আছে

সে জাতির নাম মানুষ জাতি;

এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত

একই রবি শশী মোদের সাথী।”

(মানুষ জাতি : সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

নদ-নদী ও হাওর-বাঁওড় : বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ অসংখ্য নদী সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে থেকে এর রূপ বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছে এক অসাধারণ আমেজ। নদীর বুকে পানকৌড়ি, গাংচিলসহ অসংখ্য পাখির জলকেলি আর সারি বেঁধে বয়ে চলা রঙ-বেরঙের পালতেলা নৌকার দৃষ্টিনন্দন রূপ হৃদয়-মনে এক অনির্বচনীয় আনন্দের সৃষ্টি করে। কবির ভাষায়-

“বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।”

            (বাংলার মুখ : জীবনানন্দ দাশ)

পল্লীপ্রকৃতি : গ্রামের দেশ বাংলাদেশ। এখানে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। প্রকৃতির অপরূপ রূপ বৈচিত্র্য গ্রামবাংলাকে ঋদ্ধ করেছে। গ্রামের সৌন্দর্য অকৃত্রিম। যতদূর দৃষ্টি যায় সবুজ মাঠ আর সোনালি শস্যের সমারোহ। মেঠো পথ বেয়ে গাছপালায় ঘেরা ছোট ছোট ঘরগুলো যেন এক একটি শান্তির নীড়। পুকুর, নালা বা বিলের কাকচক্ষু জলে ফুটে থাকা শাপলা কিংবা পদ্মের সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ করে। ক্লান্ত রাখালের অপূর্ব বাঁশির সুর দশদিক আলোড়িত করে। চিরন্তন গ্রামবাংলার এ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতায় গেয়ে ওঠেছেন-

“অবারিত মাঠ, গগন ললাট, চুমে তব পদধূলি

ছায়া সুনিবিড়, শান্তির নীড়, ছোট ছোট গ্রামগুলি।”

উপসংহার : দেশকে তাই যতটা পারা যায় কাছে থেকে দেখতে হবে। দেশ মানে এর মানুষ, জনপদ, নদী, আকাশ, প্রান্তর, পাহাড়, সমুদ্র এসব। দেশ হলো আসলে জননীর মতো। মা যেমন স্নেহ-মমতা ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আগলে রাখেন, দেশও তেমনই তার আলো-বাতাস সম্পদ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। মাকে আমরা যেমন ভালোবাসি, দেশকেও তেমনই ভালোবাসতে হবে। দেশকে ভালোবাসার মধ্যদিয়েই সার্থক হয়ে উঠবে আমাদের জীবন। কেননা-

“বাংলার হাওয়া বাংলার জল

হৃদয় আমার করে সুশীতল

এত সুখ-শান্তি এত পরিমল

কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া।”

(বাংলা আমার : কায়কোবাদ)

 

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর