১৩ মে, ২০২০ ১২:৩১

চিরায়ত বাঙালি পোশাক

জসিম মল্লিক

চিরায়ত বাঙালি পোশাক

বাংলাদেশের অনেক মেয়েরা এখন শর্টস পরে। পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে এটা একধাপ 'উন্নতি'র লক্ষণ। ঢাকায় যখন আমার বন্ধুদের বাসায় যাই অনেক তরুণ মেয়েরাই ঘরে শর্টস পরে থাকে। বাবা মায়েরাও এটাকে সহজভাবেই দেখে বা এটা নিয়ে মাথা ঘামানোরও কিছু নাই। শর্টস একটা পোশাক এর বেশি কিছু না। অনেকে এটাকে বাঁকা চোখে দেখার প্রয়াস পান। কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা স্বাভাবিক মনে হয়। মোটেই দোষণীয় মনে হয় না। অনেক বয়স্ক নারীরাও শর্টস পরেন বা বিপদজ্জনক মাত্রায় লো কাট ড্রেস পরেন এবং সেসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই ছবিতে হাজার হাজার লাইক কমেন্টস থাকে। বেশিরভাগ লাইক পুরুষরা দেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশে যে পরিমাণ শর্টস মেয়েরা পরে ছেলেরা সেই তুলনায় কম পরে। নর্থ আমেরিকায় বা ইউরোপেও বাঙালি মেয়েরা ঘরে বাইরে ধুম ধারাক্কা শর্টস পরে না। বিদেশে এসেও ওরা খ্যাত রয়ে গেছে!

যেমন আমার ছেলে অর্ক ছয় ফুট এক ইঞ্চি লম্বা। নিয়মিত জিম করে। সুন্দর ফিগার। মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি সব শেষ অর্কর আদুর গা দেখেছি ওর যখন সাত বছর বয়স তখন। ঢাকায় থাকি তখন আমরা। অর্কর খুব জ্বর হয়েছে একবার। টাইফয়েডের মতো। আমি প্রতিদিন অর্কর বুক পিঠ আইস দিয়ে স্পঞ্জ করি। সেই শেষবার। আর কখনো না। অর্ক কখনো আমাদের সামনে পোশাক বদলায় না। আমার অনেকবার ইচ্ছে হয়েছে অর্ক কেমন ফিগার বানালো দেখি। এমনকি টরন্টোতে যখন ও টিন এজ হাইস্কুল বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তখনও ঢোলা ঢালা নাভির নিচ দিয়ে ঝুলে পড়ে যাচ্ছে, আন্ডার গার্মেন্টস বের হয়ে আছে টাইপ জিন্স পরতে দেখিনি। বরং আমি নিজে সামারে ঘরে শর্টস পরি এবং কখনো কখনো খালি গা হই।

আর আমার মেয়ে অরিত্রি তো আরো এক ধাপ উপরে। এখনও পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে গেলে শাড়ি পরার চেষ্টা করে। ওর জন্য জেসমিন শাড়ি কিনে আনে কলকাতা থেকে। সুন্দর সুন্দর কম্বিনেশনের সালোয়ার কামিজ পরে। অরিত্রি হাই প্রোফাইল জব করে, সবাই সাদা কো ওয়ার্কার কিন্তু ড্রেসআপে পুরোপুরি ওর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের বাঙালিয়ানা আছে। এমন না যে আমরা কখনো বলেছি এই ধরনের ড্রেস পরবা বা এইটা পরবা না। আমেরিকা বা কানাডার প্রায় প্রতিটা বাঙালি পরিবারে মা বাবা যেমন তেমনি সন্তানরা চিরায়ত বাঙালি পোশাকে সাজতে পছন্দ করে। ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরিধান করলেও সেগুলো হয় দৃষ্টিনন্দন!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর