মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ময়মনসিংহের ছয়জনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের ত্রিশালের ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- মোখলেছুর রহমান মুকুল, শামসুল হক ফকির, নুরুল হক ফকির, সুলতান মাহমুদ ফকির, নাকিব হোসেন আদিল সরকার ও সাইদুর রহমান রতন। তারা সবাই পলাতক। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৫০তম রায়। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন ও তাপস কান্তি বল। আসামিদের পক্ষে ছিলেন গাজী এমএইচ তামিম। রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে ছয়জনকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগেও ফাঁসি দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই নম্বর অভিযোগে চার আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন সাংবাদিকদের বলেন, হত্যা, নির্যাতন, আটক ও অপহরণের অভিযোগসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। ছয়টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত রবিবার মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য করা হয়। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের জুন-জুলাইয়ে ত্রিশালের আহমেদাবাদে একটি বিদ্যালয়ে ক্যাম্প স্থাপন করে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী। ওই সময় কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপার করতেন। এ কারণে ইউনুছ আলীকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যান ২০-২৫ জন। নির্যাতনের পর ’৭১ সালের ১৫ আগস্ট সকালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ওই রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এলাকায় লুটপাট ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। এসব অভিযোগে পরে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ফরমাল চার্জ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইউনুছ আলীর ছেলে রুহুল আমিন। ওই দিনই দুপুরে বিচারক আবেদা সুলতানা মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর