সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩ ০০:০০ টা

দুই দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি

মো. রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

দুই দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন। এ নির্বাচনী এলাকার বিস্তীর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলে রয়েছে আদিবাসীদের বসবাস। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন এই আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। কিন্তু ২০০৮ সালে তা ফিরে আসে আওয়ামী লীগের ঘরে। তখন এই আসনে নির্বাচিত হন মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান পরাজিত হন এবং বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম নির্বাচিত হন। সংসদ মেয়াদের শেষের দিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিন উপজেলা ও দুই পৌরসভার বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সরব হয়ে উঠেছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা চোখে না পড়লেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা আরেক বড় দল বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, আমি প্রথম থেকেই এলাকার উন্নয়নসহ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।

আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসও কর্মী-বাহিনী নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় তিনি গণসংযোগ করছেন। তাই দলের মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয় লাভ করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিও মনোনয়ন চাইবেন। সে লক্ষ্যে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মাহিয়া মাহি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের সব জায়গায় উন্নয়ন হলেও আমার নির্বাচনী এলাকায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকার উন্নয়নে অংশ নেওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন চাইব। আর দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তবে আমি বিজয় লাভ করতে পারব। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তিনি তার পক্ষেই নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলেও জানান। সদ্য উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জামানত হারানো সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বাচ্চু ও রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন, গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হুমায়ূন রেজা, নাচোল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদের, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার এবং যুবলীগ নেতা রফিকুল আলম সৈকত জোয়ার্দার। সংসদ থেকে পদত্যাগের পর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামকে এলাকায় তেমন একটা দেখা যায়নি। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলা মহিলা দলের নেত্রী মাসউদা আফরোজা হক শুচি নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের আশায় এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনিই বিজয় লাভ করবেন। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম আবারও অংশ নেবেন বলে তার অনুসারীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আবদুর রাজ্জাক, বিএনএফের নবিউল ইসলাম এবং জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা প্রার্থী হবেন বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সর্বশেষ খবর