শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩ ০০:০০ টা

মধ্যরাতে ভক্তদের চোখের জলে সাঙ্গ হলো লালন মেলা

জাহিদুজ্জামান, কুষ্টিয়া

মধ্যরাতে ভক্তদের চোখের জলে সাঙ্গ হলো লালন মেলা

লাখ লাখ মানুষকে নিয়ে লালন ভক্তদের টানা তিন দিনের মিলনমেলা শেষ হয়েছে গত মধ্যরাতে। শেষ লগ্নে ভক্তরা চোখের জলে এ আয়োজন ছেড়েছেন। তারা সবাই ‘মানুষ হওয়া এবং মানুষ গড়ার’ প্রতিজ্ঞা নিয়ে বিদায় জানান এই প্রাণের আয়োজনকে।

ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৩তম তিরোধান দিবস ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর শুরু হয় এই আয়োজন। ওইদিন রাতে হয় অধিবাস। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে বাল্যসেবা এবং বেলা ৩টায় পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে শেষ হয় অষ্টপ্রহরের সাধুসঙ্গ। এই তিন দিনের প্রতিদিনই লালন একাডেমির স্থায়ী মঞ্চে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় আলোচনা সভা। রাত ১০টার দিকে আলোচনা শেষে শুরু হয় লালন সংগীতের আয়োজন। চলতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। আখড়াবাড়ির বাইরে মাঠের বড় একটি অংশজুড়ে এ উপলক্ষে গ্রামীণ মেলার আদলে বসে লালন মেলা।

এবারের আয়োজনে এত বেশি সাধু-ফকির ও বাউল আসেন যে ছেউড়িয়ার লালনের আখড়াবাড়ির ভিতরে পা ফেলার স্থানটুকু ছিল না। যে যেখানে পেরেছেন আসন পেতে বসেছেন। এমনকি অনেকেই পায়ে চলা রাস্তার ওপরও আসন পাতেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে অনেক সাধু-ফকির চলে যাওয়ায় কিছুটা ফাঁকা হয়েছিল আখড়াবাড়ি। তবে গতকাল দিনগত মধ্যরাত পর্যন্ত দলে দলে ভাগ হয়ে লালনের গান গেয়েছেন লাখো মানুষ।

লালন একাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্যবারের চেয়ে এবারের তিরোধান দিবসের এই লালন মেলায় সাধু-ফকির ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল অনেক বেশি। লালন একাডেমির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক বলেন, অনেকে চলে গেলেও ভিড় কমেনি বরং যোগ হয়েছেন নতুন লোক। আসলে লালনদর্শনের প্রচার বেড়েছে। সেই আকর্ষণে দর্শনার্থীও এসেছেন বেশি। তিন দিনই সন্ধ্যার দিকে কয়েক লাখ মানুষের ভিড় চলে যায় আশপাশের রাস্তায়। বিদায়ের সময় অনেক সাধু-ফকির কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদায় বেলা অনেকেই গেছেন চোখ মুছতে মুছতে। এ সময় শান্ত ফকির বলেন, সাধুসঙ্গে পাওয়া উপলব্ধি থেকে চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সাধুতে পরিণত হব। লালনের বাণী ছড়িয়ে দেব সবার মাঝে। কারণ লালনদর্শন মেনে চললে হানাহানি বন্ধ হবে। মানুষ পরিণত হবেন প্রকৃত মানুষে।

সর্বশেষ খবর