শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা

গুজরাট বিধানসভার চূড়ান্ত দফার নির্বাচন শেষ

জরিপে এগিয়ে বিজেপি, মোদির বিরুদ্ধে নালিশ

কলকাতা প্রতিনিধি

চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গুজরাট বিধানসভার দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গুজরাটের এই নির্বাচন এবার বিশেষ মহত্ত্ব বহন করছে। কারণ এই নির্বাচনকে ঘিরেই কংগ্রেসের সভাপতির পদে পরিবর্তন এসেছে। আর এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সকাল ৮টা থেকে উত্তর ও মধ্য গুজরাটের ১৪টি জেলার ৯৩টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া শুরু হয়, শেষ হয় বিকাল ৫টায়। মোট ৮৫১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন প্রায় সোয়া দুই কোটি ভোটার। এদিন সাধারণের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে আহমেদাবাদের সবরমতী বিধানসভা কেন্দ্রের রানিপ এলাকার নিশান হাইস্কুলে ১১৫ নম্বর বুথে ভোট দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে ছোট ছেলে পঙ্কজ মোদি ও পরিবারের লোকদের নিয়ে এদিন সকালে গান্ধীনগরে আর্যভট্ট হাইস্কুলে ভোট দেন মোদির মা হিরাবেন (৯০)। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ভোট দিয়ে যান বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, গুজরাটের সাবেক নারী মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, রাজ্যটির উপমুখ্যমন্ত্রী বিজেপির নীতিন প্যাটেল, কংগ্রেস প্রার্থী শক্তিশিং গোহিল, পতিদার নেতা ও প্যাটেল আন্দোলনের নেতা হার্দিক প্যাটেল, সাবেক ক্রিকেটার নয়ন মোঙ্গিয়া প্রমুখ।  তবে গুজরাট বিধানসভার শেষ দফার নির্বাচন পর্বকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে, তার আঁচ গুজরাটের সীমানা ছাড়িয়ে আছড়ে দিল্লিতেও পড়েছে। সেটা হলো নির্বাচন কমিশনে মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনা। এদিন দুপুর ১২টার কিছু পরে সবরমতীর নিশান হাইস্কুলে নিজের ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে নিজের ভোটের আঙ্গুলটি উঁচু করে তুলে ধরে প্রায় ১০০ মিটার পথ পায়ে হেঁটে যান। এ সময় মোদিকে শুভেচ্ছা জানাতে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হন। তারা ‘মোদি-মোদি’ বলে স্লোগান তুলে। মোদিও উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এই ঘটনার পরই মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ এনে বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে নির্বাচনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ‘রোড শো’ করেছেন। তাদের অভিযোগ ভোটারদের প্রভাবিত করতেই মোদির এই প্রচেষ্টা। অন্যদিকে বিজেপিও ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। গুজরাটে ভোটপর্ব চলাকালে গতকাল একটি গুজরাটি টিভি চ্যানেলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর এক সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির তরফেও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হয়। গণনা আগামী ১৮ ডিসেম্বর। ওই একই দিনে হিমাচল প্রদেশ বিধানসভার ভোটেরও ফলাফল ঘোষিত হবে। পশ্চিম ভারতের এই রাজ্যটিতে গত ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। ২০১২ সালের নির্বাচনে ১৮২ আসনের গুজরাট বিধানসভায় ১১৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। কংগ্রেস পেয়েছিল ৬০টি আসন। গুজরাটে সরকার গড়তে দরকার ৯২টি আসন।

বুথ ফেরত জরিপে এগিয়ে বিজেপি : এবারও বিজেপিই ক্ষমতায় আসতে চলেছে গুজরাটে। গতকাল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই বিভিন্ন সংস্থার তরফে যে বুথ ফেরত জরিপ আসতে শুরু করেছে তাতেই এই চিত্র উঠে এসেছে। টাইমস নাও-ডিএমআরের যৌথ জরিপে বিজেপি পেতে পারে ১০৯ আসন, কংগ্রেস পেতে পারে ৭০টি আসন। ইন্ডিয়া টুডের জরিপে দেখা গেছে বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ৯৯ থেকে ১১৩ আসন, কংগ্রেস পেতে পারে ৬৮-৮২ আসন। রিপাবলিক টিভি ও সি ভোটারের জরিপে বিজেপি পেতে পারে ১০৮ আসন, কংগ্রেস ৭৪ আসন। জি নিউজ-অ্যাক্সিস যৌথ জরিপে, বিজেপি ৯৯-১১৩ আসন, আর কংগ্রেস ৬৮-৮২ আসন। নিউজ এক্সের জরিপে বিজেপি ১১০-১২০টি আসনে জয় পেতে পারে বলে দেখানো হয়েছে, কংগ্রেস পেতে পারে সর্বোচ্চ ৬৫-৭৫ আসন।

সর্বশেষ খবর