১৪ জানুয়ারি, ২০২৪ ১০:৫১

লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধান কমাল ম্যানচেস্টার সিটি

অনলাইন ডেস্ক

লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধান কমাল ম্যানচেস্টার সিটি

সংগৃহীত ছবি

অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও কাজ হচ্ছিল না। ভাঙা যাচ্ছিল না নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জমাট রক্ষণ। বদলি নেমে খেলার চিত্র পাল্টে দিলেন কেভিন ডে ব্রুইনে। জাদুকরী ফুটবলে করলেন গোল, অবদান রাখলেন যোগ করা সময়ের গোলে। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ জিতে লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধান কমাল ম্যানচেস্টার সিটি।

প্রতিপক্ষের মাঠে অনেকটা সময় পিছিয়ে থাকা পেপ গার্দিওলার দল শনিবার (১৩ জানুয়ারি) প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে জিতেছে ৩-২ গোলে।  বের্নার্দো সিলভার গোলে এগিয়ে যায় সিটি। প্রতি-আক্রমণে ১৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে আলেকসান্দার ইসাক ও অ্যান্থনি গর্ডনের দুই গোলে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। ৭৪তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ববের গোলে অবদান রাখেন ডে ব্রুইনে। প্রিমিয়ার লিগে ফেরার ম্যাচে নায়ক সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয় মিনিটেই সিটির জালে বল পাঠায় নিউক্যাসল। কিন্তু অফসাইডের জন্য মেলেনি গোল। বলের জালে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টায় চোট পান এদেরসন। কিছুক্ষণ শুশ্রূষা নিয়ে উঠে দাঁড়ান তিনি। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছিল হাঁটুর সমস্যা বেশ ভোগাচ্ছে তাকে। ষষ্ঠ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তালগোল পাকান তিনি। শট করেছিলেন ছুটে আসা নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড গর্ডন বরাবর। বুক দিয়ে বল আটকে দিলেও এদেরসনের চ্যালেঞ্জের মুখে শট নিতে পারেননি তিনি। খুঁজে নেন পাশেই থাকা ব্রুনো গিমারাইশকে। এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ঠিকমতো শট নিতে না পারায় বেঁচে যায় সিটি।

সাথে সাথেই গোলরক্ষক বদলের ইশারা দেন গুয়ার্দিওলা। অষ্টম মিনিটে এদেরসনের জায়গায় মাঠে আসেন জার্মান গোলরক্ষক স্তেফান ওর্তেগা। পঞ্চদশ মিনিটে মিগেল আলমিরনের ক্রসে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ইসাক। কিন্তু ঠিক মতো শট নিতে পারেননি নিউক্যাসলের এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড। বল বেরিয়ে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। পাল্টা আক্রমণে পরের মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি সিলভা।

তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়েই ২৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। কাইল ওয়াকারের চমৎকার নিচু ক্রসে গোড়ালি দিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে জাল খুঁজে নেন অভিজ্ঞ পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। বেশি কিছু করার ছিল না গোলরক্ষক মার্তিন দুবব্রাউকার। তিন মিনিট পর দুবব্রাউকারের নৈপুণ্যেই বাড়েনি ব্যবধান। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে সিলভার বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন দুবব্রাউকা।    

সিটির রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়ানো ইসাকের নৈপুণ্যে সমতা ফেরে ম্যাচে। ২৬তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ বল পেয়েই তাকে খুঁজে নেন গিমারাইশ। গতিতে ওয়াকারকে পেছনে ফেলে আড়াআড়ি শটে জাল খুঁজে নেন ইসাক। ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি ওর্তেগা। ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ড পর প্রতি-আক্রমণে আরকটি দারুণ গোলে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। ড্যান বার্নের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম দিক থেকে বিনা বাধায় অনেকটা এগিয়ে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন গর্ডন।

৪১তম মিনিটে স্কোরলাইন হতে পারত ৩-১! পাল্টা আক্রমণে ফের গতির ঝলক দেখিয়ে এগিয়ে যান ইসাক। কিন্তু এবার তিনি এড়াতে পারেননি ওর্তেগার বাধা। কিছুটা এগিয়ে এসে অ্যাঙ্গেল ছোট করে দিয়ে শট হাঁটু দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সিটির বদলি গোলরক্ষক।

বিরতির আগে আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশ চেপে ধরলেও সমতা ফেরাতে পারেনি সিটি। এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নিউক্যাসল। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা ধরে রাখে সিটি। তৈরি করতে থাকে একের পর এক সুযোগ। ৫২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন দুবব্রাউকা। পাঁচ মিনিট পর ফোডেনের শটও ব্যর্থ করে দেন নিউক্যাসল গোলরক্ষক। ৬৪তম মিনিটে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে আলভারেসের শট ঠেকিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন তিনি।

খেলার ধারার বিপরীতে ৬৬তম মিনিটে সুযোগ পায় নিউক্যাসল। কিন্তু ঠিক সময়ে এগিয়ে এসে স্বাগতিকদের প্রচেষ্টা রুখে দেন ওর্তেগা। পরের মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট ফিরিয়ে দেন দুবব্রাউকা। ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আলভারেস। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের শট যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। পরের মিনিট তার শট শুয়ে পড়ে ঠেকান ডিফেন্ডার ফাবিয়ান শার। 

৭৪তম মিনিটে আর পারেনি নিউক্যাসল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে ঠাণ্ডার মাথার ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন ডে ব্রুইনে। এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম রাউন্ডে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। লিগে ফেরার ম্যাচে মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই গোল করলেন তিনি, ফেরালেন সমতা।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবার ডে ব্রুইনে জাদু। দারুণ ক্রসে তিনি খুঁজে নেন ববকে। সঙ্গে লেগে থাকা খেলোয়াড়ের স্লাইড এড়িয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। পায়ের কারিকুরিতে গোলরক্ষককে এড়িয়ে পাঠিয়ে দেন জালে!  নরওয়ের মিডফিল্ডারের প্রিমিয়ার লিগে এটাই প্রথম গোল। তার চমৎকার ফিনিশিংয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল সিটি।

প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয় পেল সিটি। ২০ ম্যাচে ১৩ জয় ও চার ড্রয়ে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এলো শিরোপাধারীরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ছয় ম্যাচেই জিতল দলটি। এর ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতা হলো নিউক্যাসলের। লিগে সবশেষ সাত ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠ হার। ২১ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে দলটি আছে ১০ নম্বরে। ২০ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে লিভারপুল। সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে অ্যাস্টন ভিলা।

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর